ইসলামিক কর্নার

ঈদের নামাজের নিয়ম। ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার নামাজ শিখুন

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজের নিয়ম : ইসলামে দু’টি স্বীকৃত ঈদ হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতর পালন করা হয় রমজান মাস শেষ হবার ঠিক পরের মাস অর্থাৎ শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এবং ঈদুল আজহা পালন করা হয় জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে। দুই ঈদের দিনেই নামাজ পড়া ওয়াজিব। মহানবী (সা.) বলেন, প্রতিটি জাতিরই আনন্দ-উৎসব রয়েছে, আমাদের আনন্দ-উৎসব হচ্ছে এই ঈদ।“ (বুখারি ও মুসলিম)

SHIKHIBD.COM 16
ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের দিনের ১০টি সুন্নত: ঈদের দিনের ১০টি সুন্নত জেনে রাখা খুবই প্রয়োজন। যেমন- ১। সুন্দর পোশাক পরা ২। গোসল করা ৩। মিসওয়াক করা  ৪। সুগন্ধি ব্যবহার করা ৫। আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া। ৬।ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া  ৭। পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া ৮। সম্ভব হলে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা। ৯। ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত এবং ঈদুল আযহার দিনে না খেয়ে যাওয়া সুন্নত। ১০। ঈদগাহে যাবার সময় আস্তে আস্তে তাকবির বলা, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ্ ।“

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুই ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম একই রকম। ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করতে হবে। আর ঈদুল আজহায় ৯ই জিলহজ অর্থাৎ ঈদের আগের দিন ফজরের নামাজ হতে শুরু করে ১৩ই জিলহজ (অর্থাৎ ঈদের দিনের পরে আরও ৩দিন ) আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ্।“ বলা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।

তাকবিরে তাশরিক বলা নারীদের জন্যও ওয়াজিব কিনা এই বিষয়ে মতভেদ আছে। তবে পড়াই উত্তম। কেননা তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব না হলেও নেকী তো পাওয়া যাবে। আর যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে ওয়াজিবও আদায় হয়ে গেল।

ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব?

অনেকের মনেই এমন প্রশ্ন হয় যে, ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব ? হ্যাঁ ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ঈদের নামাজের আহকাম জুমআর নামাজের মতোই। তবে জুমআর নামাজে খুতবা দেওয়া ওয়াজিব কিন্তু ঈদের নামাজে খুতবা দেওয়া সুন্নত। তবে মুসল্লিদের জন্য সকল খুতবা শোনাই ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের নিয়ত

ঈদের নামাজের নিয়ত মূলত মনের সংকল্প। তাই মনে মনে ঈদের নামাজের নিয়ত করাটাই যথেষ্ট। নিয়ত আরবিতে করাটা জরুরী নয়। তবে মনকে স্থির রাখার জন্য এভাবে বলা যেতে পারে, “ আমি ঈদুল ফিতর/আজহার দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সাথে এই ইমামের পিছনে কিবলামুখী হয়ে আদায় করতেছি ‘আল্লাহু আকবার।‘

১ম তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পর হাত বাধতে হবে এবং সানা পড়তে হবে।

সানা- “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবার কাসমুকা, ওয়া তাআলা যাদ্দুকা ওয়াজাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক । অর্থ –

সানার অর্থ-“হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনি প্রশংসিত, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চে আর আপনি ব্যতীত কোনো মাবুদ  নেই।

২য় তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ – কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে এবং হাত নামিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, হাত বাঁধা যাবে না।

৩য় তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ – কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে এবং হাত নামিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, হাত বাঁধা যাবে না।

৪র্থ তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ – কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে এবং হাত বাঁধতে হবে।

এরপর আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীম-বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম পড়ে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়তে হবে ।

তারপর রুকু করতে হবে, এরপর দুই সিজদাহ করতে হবে ।

এরপর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়তে হবে । তবে সরাসরি রুকুতে যাওয়া যাবে না।

এরপর  তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ –বলে রুকুতে না গিয়ে কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে এবং হাত নামিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, রুকু করা যাবে না।

২য় তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ – বলে রুকুতে না গিয়ে কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে এবং হাত নামিয়ে ছেড়ে দিতে হবে, রুকু করা যাবে না।

৩য় তাকবির ‘আল্লাহু আকবার’ – বলে আবার দুই হাত বাধতে হবে।

এরপর ৪র্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে।

তারপর দুই সিজদাহ করতে হবে। এরপর তাশাহহুদ, দুরুদে ইবরাহিম, দুআ মাছুরা পড়ে ডানে-বামে সালাম ফিরাতে হবে।

তাশাহহুদ

আততাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াসসলাওয়াতু ওয়াতত্বয়্যিবাত । আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাননাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া য়ালা ইবাদিল্লাহিস সলিহীন। আশহাদু আল্লাইলাহা আল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

দুরুদে ইবরাহীম

‘আল্লাহুম্মা সল্লিয়ালা মুহাম্মাদিউ ওয়া য়ালা আলি মুহাম্মাদ , কামা সল্লাইতা য়ালা ইবরাহীমা ওয়া য়ালা আলি ইরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।  ‘আল্লাহুম্মা বারিক য়ালা মুহাম্মাদিউ ওয়া য়ালা আলি মুহাম্মাদ , কামা বারাকতা য়ালা ইবরাহীমা ওয়া য়ালা আলি ইরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।“

অর্থ : হে আল্লাহ ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি আপনার শান্তি বর্ষণ করুন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতিও ; যেমন শান্তি বর্ষণ করেছিলেন ইবরাহীম (আ.) এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতি। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি আপনার বরকত বর্ষণ করুন, এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতিও ; যেমন বরকত বর্ষণ করেছিলেন ইবরাহীম (আ.) এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের প্রতি।“

ইসলামিক সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন ইসলামিক কর্নার

দুআয়ে মাছুরা

আল্লাহুম্মা ইন্নি জ্বলামতু নাফসি। জুলমান কাছীরা। ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি, মাগফিরতাম মিন ইনদিকা, ওয়ার হানি ইন্নাকা আনতাল গফুরুর রাহীম।

যাহোক, আমি মূলত এখানে ঈদের নামাজের নিয়ম পর্বে কিভাবে ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার নামাজ পড়তে পারবেন; সে বিষয়ে শিখালাম। আরও যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্ট করুন।

Samim Ahmed

Hey! I'm Samim Ahmed (Admin of ShikhiBD). I love to write and read on the topic of current affairs. Since my childhood; I have been an expert in writing feature posts for various magazines.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button