ইসলামিক পোস্ট

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি হাদিস

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি হাদিস : মহান আল্লাহর বাণী,” হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।” বছরের একটি মাস মাহে রমাদান । এই এক মাস রোজা রাখা সুস্থ, বয়সপ্রাপ্ত সকল মুসলমানের উপর ফরজ করা হয়েছে। রোজার ফজিলত ও আমল জানা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য ।

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি হাদিস
রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি হাদিস

রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে ১০টি হাদিস

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে রোজা রাখার অনেক ফজিলত বর্ণিত রয়েছে। আজকে আমরা রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব নবীজির সাঃ সম্পর্কে ১০টি হাদিস জানবো।

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ১

হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে রায়য়ান নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এটি দিয়ে শুধু সিয়াম পালনকারী লোকেরা (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ তাদের সঙ্গে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তাদেরকে বলা হবে, সিয়াম পালনকারী লোকেরা কোথায়? অতঃপর তারা সে দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। তাদের শেষ লোকটি প্রবেশ করার পরই দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কেউ প্রবেশ করবে না।

সহীহ মুসলিম-২৫৮১

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ২

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রমযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং (তারাবীহ্ তাহাজ্জুদ ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। 

তিরমিযী -৬৮০

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৩

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমযান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জ্বীনদের শৃঙখলাবদ্ধ করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না; জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণকামী! অগ্রসর হও। হে পাপ কাজে আসক্ত ! বিরত হও।

তিরমিযী -৬৭৯

কাঁচা হলুদের পুষ্টিগুণ জেনে নিন

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৪

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আদম সন্তান তার যাবতীয় আমল তার নিজের জন্য করে। কিন্তু সিয়াম শুধু আমার জন্যই করে এবং আমি নিজ হাতে এর প্রতিদান দিব। (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন) যার হাতে মুহাম্মদ এর প্রাণ তাঁর শপথ! সিয়াম পালনকারী ব্যাক্তির মুখের গন্ধ, আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধি হতেও উৎকৃষ্ট।

সহীহ মুসলিম-২৫৭৫

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৫

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রমযান মাস এলে জান্নাতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্ধী কর হয়।

সহীহ মুসলিম-২৩৬৬

প্রাথমিক স্তরের জন্য ১০টি বাংলা রচনা

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৬

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিয়াম পালনকারী যদি ভুলক্রমে খায় বা পান করে তবে সে তার সাওম  পূর্ণ করবে। কেননা আল্লাহ তা’আলাই তাকে আহার করিয়েছেন ও পান করিয়েছেন।

সহীহ মুসলিম-২৫৮৭

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৭

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা’আলা প্রদত্ত সুযোগের (সফর বা রোগ) অনুমতি ব্যতীত অন্য কোন কারণে রামাযানের কোন দিন রোযা ভঙ্গ করে, সে যদি যুগ যুগ রোযা রাখে তবুও তার কাযা আদায় হবে না।

 আবু দাউদ-২৩৮৯

টমেটো চাষ পদ্ধতি । রোগ ও প্রতিকার

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৮

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিব এর সালাত) আদায়ের আগেই কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে কিছু শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করে নিতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না পেতেন তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন। 

তিরমিযী -৬৯৪

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ৯

হযরত সাহাল ইবনে সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন দেরি না করে ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

তিরমিযী -৬৯৭

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস : ১০

হযরত যায়িদ ইবনে খালিদ জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে  তার জন্যও রোজাদারের অনুরূপ সাওয়াব লেখা হবে। কিন্তু এতে ঐ রোজাদার ব্যক্তির সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না।

তিরমিযী -৮০৫

মুসলমানের প্রতিটি নেক আমলই হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ্ ৭০ গুণ বেশি দান করেন। তাই আসুন আমরা রমজান মাসে বেশি থেকে বেশি নেকী কামাই করতে চেষ্টা করি।

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের (পাল্লায়) অত্যান্ত ভারী, পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলোঃسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ      سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী – সুবহানাল্লাহিল আজীম) সহীহ মুসলিম-৬৬০১

মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব বুঝে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন

রোজার ফজিলত সম্পর্কে আরও জানতে পারেন এখানে : রোজার ফজিলত ও তাৎপর্য

Samim Ahmed

Hey! I'm Samim Ahmed (Admin of ShikhiBD). I love to write and read on the topic of current affairs. Since my childhood; I have been an expert in writing feature posts for various magazines.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *