রক্তদানের নিয়ম-কানুন । Blood Transfusion ব্লাড ট্রান্সফিউশন কি
রক্তদানের নিয়ম-কানুন । Blood Transfusion ব্লাড ট্রান্সফিউশন কি : রক্তদান বা রক্তগ্রহণ উভয় ক্ষেত্রেই সচেতনতা আবশ্যক। আজকের পোস্টে আমরা রক্তদানের বিস্তারিত নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানবো ।

রক্তদানের নিয়ম-কানুন । Blood Transfusion ব্লাড ট্রান্সফিউশন কি
ব্লাড ট্রান্সফিউশন কী?
একজন সুস্থ মানুষের শরীর থেকে অসুস্থ মানুষের শরীরে রক্ত দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্লাড ট্রান্সফিউশন Blood Transfusion বলে ।
ব্লাড ট্রান্সফিউশন কেন প্রয়োজন ?
সড়ক দুর্ঘটনা ও নানা ধরনের মেজর অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে কিংবা প্রসবজনিত জটিলতা, হেমোফেলিক রোগী, রক্তস্বল্পতা, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, ম্যালিগন্যান্সি, থেলাসেমিয়া, অঙ্গ-প্রতিস্থাপন, ডেঙ্গু, কেমোথেরাপির পর, ডায়ালাইসিস ও নিওনেটাল জন্ডিসসহ অন্যান্য কারণে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার রোগীর শরীরে তাৎক্ষণিক ব্লাড ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হয়। আসুন আমরা রক্তদানের নিয়ম জেনে নিই –
ব্লাড ট্রান্সফিউশনের পূর্বে যেসব বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন –
• সুস্থ মানুষের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া
• Voluntary ডোনার হলে সবচেয়ে ভালো
• কেনা রক্ত হলে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া
• ট্রান্সফিউশনের পূর্বে রক্তের স্ক্রিনিং যথা: HBsAg, HCV, HIV, MP, VDRL/TPHA পরীক্ষা করা। কারণ, অনিরীক্ষিত রক্তের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, এইডস, ম্যালেরিয়া ও গনোরিয়ার মত মারাত্মক ব্যাধি অন্যের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে
• ড্রাগ এডিক্টেট কিংবা মারাত্মক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত না নেওয়া
• যদি সম্ভব হয় আত্মীয় ডোনার (Relative Donor) পরিহার করা
ফুটবল মাঠের মাপ । খেলার নিয়ম ও ফুটবল খেলার কলাকৌশল
রক্তদানের যোগ্যতা
রক্তদানের যোগ্যতা নিম্নরূপ :
• বয়স ১৮-৬০ বছর হতে হবে
· ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি হতে হবে
• রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে হবে
• একজন সুস্থ মানুষ নির্দ্বিধায় প্রতি ৪ মাস অন্তর অন্তর রক্ত দান করতে পারেন
প্রি-টেস্ট ডোনেশন পলিসি
এ পদ্ধতিতে একজন রক্তদাতা টি টি আই স্ক্রিনিং ও রক্ত গ্রহীতার সঙ্গে তার রক্ত ক্রসম্যাচ কম্পাটিবল হওয়ার পরই কেবল রক্তদানের জন্য নির্বাচিত হবেন।
পোস্ট-টেস্ট ডোনেশন পলিসি
এ পদ্ধতিতে একজন রক্তদাতা টি টি আই স্ক্রিনিং ও রক্ত গ্রহীতার সঙ্গে তার রক্ত ক্রসম্যাচ কম্পাটিবল হওয়ার আগেই রক্তদান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রক্ত প্রসেসিং এর কোন পর্যায়ে উক্ত রক্তদাতার রক্ত পরিসঞ্চালনের জন্য অযোগ্য প্রমাণিত হলে দানকৃত রক্তের ইউনিটটি পরিত্যক্ত (Discard) করা হবে। রোগীর এ্যাটেনডেন্টকে পুনরায় বিল পরিশোধ করে আরেকজন রক্তদাতা সংগ্রহ করে আনতে হবে ।
বি:দ্র: প্রতি ৪ মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করলে কোন ক্ষতি নেই বরং হাড়ের মধ্যে অবস্থিত অস্থিমজ্জা নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। রক্তদানের ৩ সপ্তাহের মধ্যে নতুন কণিকা তৈরি হয়ে ঘাটতি পূরণ করে। সুতরাং রক্ত দিন, মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচান ।
বাছাইকৃত সেরা ৫০ টি ইসলামিক উক্তি ও মণীষীদের বাণী
রক্তদাতার জ্ঞাতব্য বিষয়
•আপনি কি কখনো অনিরীক্ষিত (Unscreened) রক্ত বা রক্তের উপাদান গ্রহণ করেছেন?
• আপনি কি কোন প্রকার নেশাযুক্ত ঔষধ সেবনে অথবা শিরায় নিতে/ প্রবেশ করাতে অভ্যস্ত?
• আপনার একাধিক অরক্ষিত যৌন মিলনের অভ্যাস আছে কি?
উপরোক্ত কারণগুলোর একটিও যদি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় তবে আপনি যৌনরোগ এইচআইভি (এইডস)/ হেপাটাইটিস ইত্যাদি সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় রক্তদান থেকে বিরত থাকুন ।
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম ও জীবন বৃত্তান্ত
স্ক্রিনিং পরীক্ষা কী ?
ডোনার-এর রক্ত জীবন বিধ্বংসী মারাত্মক কয়েকটি রোগে আক্রান্ত কিনা তা যাচাই করার জন্য যে সব পরীক্ষা করা হয় তাকে স্ক্রিনিং পরীক্ষা বলে ।
টেস্টের নাম – রোগের নাম
HBsAg – হেপাটাইটিস-বি
HCV – হেপাটাইটিস-সি
HIV – এইডস
MP – ম্যালেরিয়া VDRL/ TPHA – গনোরিয়া/সিফিলিস
রক্তদান সম্পর্কিত পোস্টটি সম্পর্কে আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্টবক্সে জানাতে পারেন। রক্তদান সম্পর্কে আরও জানতে পারেন উইকিপিডিয়া থেকেও। ধন্যবাদ ।



